আজকে আপনাদের জন্য একটা দারুণ ট্রিক্স দিচ্ছি। আর সেটা হচ্ছে আইডি কার্ড ডাউনলোড করব কিভাবে । আপনার যদি এনআইডি কার্ড হারিয়ে গিয়ে থাকে কিংবা আপনি যদি নতুন ভোটার হন। তাহলে আমাদের আজকের এই পোস্টটি পুরোটাই পড়বেন।

আমাদের দেশের অধিকাংশ নতুন ভোটার আইডি কার্ড বা জাতীয় পরিচয় পত্র শুরুর দিকে তুলতে অনেক সমস্যা হয়। এর জন্য দায়ী বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার কাঠামো এবং নতুন ভোটারদের জাতীয় পরিচয় পত্র তোলার অবহেলা।

সেই অবহেলার অবসান ঘটিয়ে আজ আমরা আপনাকে একটি বিশেষ পদ্ধতি শিখিয়ে দেবো যা ব্যবহার করে আপনি খুব সহজেই আইডি কার্ড ডাউনলোড করতে পারবেন। এজন্য আপনাকে একটি বিশেষ ওয়েবসাইটে যেতে হবে এবং সেখানে নির্দিষ্ট ফরম পূরণ করে এবং আপনার মুখমন্ডল স্ক্যান করে আপনার আইডি কার্ড বা জাতীয় পরিচয় পত্র ডাউনলোড করতে পারবেন। তো চলুন শুরু করা যাক।

আইডি কার্ড ডাউনলোড করতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র।

জাতীয় পরিচয় পত্র ডাউনলোড করার জন্য আপনার বিশেষ ধরণের কোনো কাগজ পত্রের দরকার নেই। শুধু চার ধরনের তথ্য হলেই হবে।

আপনার এনআইডি নাম্বার বা ফর্ম নাম্বার, জন্মের তারিখ মাস ও বছর, আপনার স্থায়ী ঠিকানা, আপনার বর্তমান ঠিকানা ইত্যাদি। এখানে কেউ কেউ ফরম নাম্বার কে টোকন নাম্বার ও বলে থাকে ।তবে আপনি যদি মনে করেন এতগুলো বিষয় মনে রাখা সম্ভব না তাহলে অবশ্যই আপনি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাতের কাছে রাখতে পারেন।

মনে রাখবেন আপনি যে সকল তথ্য ওয়েবসাইট ইনপুট করবেন সেগুলো অবশ্যই নির্ভুল হতে হবে। অর্থাৎ আপনার এনআইডি কার্ড তৈরি করার আগে যে সকল তথ্য দিয়ে এনআইডি কার্ড তৈরি করেছিলেন কিংবা এনআইডি কার্ড তৈরি করার জন্য তথ্য দিয়েছিলেন সেই গুলো তথ্য ইনপুট করতে হবে। তা না হলে আপনি জাতীয় পরিচয় পত্র ডাউনলোড করতে পারবেন না।

এনআইডি কার্ড ডাউনলোড এর পদ্ধতি।

এনআইডি কার্ড বা জাতীয় পরিচয় পত্র ডাউনলোড করার জন্য আপনাকে প্রথমে একটি ওয়েবসাইটে যেতে হবে। সেজন্য আপনি প্রথমে আপনার যেকোন ব্রাউজারে ঢুকবেন তারপর সার্চ বারে ক্লিক করবেন এনআইডিবিডি । তারপর প্রথম ওয়েবসাইটটিতে ঢুকবেন।

আপনি যদি এই কাজটি করতে না পারেন তাহলে আমাদের দেওয়া লিঙ্ক এ ক্লিক করুন । এখান থেকেই আপনাকে কাঙ্ক্ষিত ওয়েবসাইটে নিয়ে যাবে। নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন তাহলেই কেবল জাতীয় পরিচয়পত্র ডাউনলোড করতে পারবেন।

Step 1

ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার পর আপনাকে রেজিস্টার বাটনে ক্লিক করতে হবে নিচে আমি একটি স্ক্রিনশট দিয়েছি রেজিস্টার লেখার অপশন এ ক্লিক করার পর আমি যেহেতু আপনার কিছু ইনফরমেশন ইনপুট করতে হবে তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সাথে রাখবেন।

এরপর আপনি নিচের স্ক্রীনশট এর মত একটি ইন্টারফেস দেখতে পাবেন। সেখানে আপনাকে ফোরম নাম্বার বা এনআইডি নাম্বার পূরণ করতে হবে। আপনারা যারা নতুন ভোটার তারা ফরম নাম্বার বা টোকেন নাম্বার দিয়ে প্রথম ঘরটি পূরণ করবেন।

আর যাদের এনআইডি কার্ড হারিয়ে গিয়েছে কিংবা নষ্ট হয়ে গিয়েছে আপনাদের যদি এনআইডি নাম্বার থেকে থাকে তাহলে সেই এনআইডি নাম্বার দিয়ে প্রথম ঘর পূরণ করবেন। নিচের স্ক্রিনশটটি দেখুন

 

এছাড়াও এখানে আপনাকে জন্ম তারিখ মাস এবং বছর সঠিকভাবে ইনপুট করতে হবে যেগুলো আপনি নতুন ভোটার হওয়ার জন্য নির্বাচন অফিসার কে দিয়েছিলেন।

আরো পড়ুনঃ কিভাবে টাকা ইনকাম করা যায় | How to earn money 2022

এছাড়াও এখানে আপনাকে একটি ক্যাপচা পূরণ করতে হবে। ক্যাপচা হিসেবে একটি পিকচার থাকবে এবং সেই পিকচার কিছু লেখা থাকবে যা আপনাকে ক্যাপচা বক্সে ইনপুট করতে হবে। ক্যাপচার লেখাগুলো একটু ঝাপসা ভাবে থাকবে তাই আপনাকে সঠিকভাবে দেখে সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে তা না হলে আপনি পরবর্তী পেজে যেতে পারবেন না। ক্যাপচা পুরন করার পর আপনাকে পরবর্তী বাটনে ক্লিক করতে হবে।

Step-2

এরপর আপনি নিজের মত একটি ইন্টারফেস দেখতে পাবেন।

সেখানে আপনার বর্তমান

ঠিকানা এবং স্থায়ী ঠিকানা পূরণ করতে হবে। তবে খুঁজে নির্ভুলভাবে পূরণ করতে হবে আপনি যা ইচ্ছা তাই দিতে পারবেন না। নতুন ভোটার হওয়ার জন্য ডিজে তথ্যগুলো নির্বাচন অফিসার কে দিয়েছিলেন সেই তথ্যগুলো দিয়েই ঘরগুলো পূরণ করতে হবে।

আমি আবার বলছি যে তথ্য গুলো নির্বাচন অফিসার কে দিয়েছিলেন নতুন ভোটার হওয়ার জন্য সেগুলো দিয়েই আপনার বর্তমান ঠিকানা ও স্থায়ী ঠিকানা পূরণ করবেন। স্থায়ী ঠিকানা বর্তমান ঠিকানা হিসেবে থাকবে বিভাগ জেলা ও উপজেলা। এগুলো পূরণ করার পর পরবর্তী বাটনে ক্লিক করবেন।

এরপর আপনাকে নিচের মত একটি ইন্টারফেস দেখাবে।

এখানে একটি নাম্বার দেখাচ্ছে জড়াতে এসএমএস যাবে এবং যার মাধ্যমে ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করা হবে। এখানে এই নাম্বারটি আপনার দেওয়া আগের কোনো এক নাম্বার যেটা আপনি নির্বাচন অফিসার কে দিয়েছিলেন।

আপনি যদি চান তাহলে এই নাম্বারটিতে এসএমএস পাঠাতে পারেন। কিন্তু আপনি যদি পরিবর্তন করতে চান তাহলে নিচের “মোবাইল পরিবর্তন” নামক বাটনে ক্লিক করুন এবং নাম্বার যোগ করে বার্তা পাঠান এ ক্লিক করুন.।নিচের স্ক্রিনশট টি দেখুন।

নাম্বার পরিবর্তন করার সাথে সাথেই আপনার ফোনে ম্যাসেজ চলে যাবে। আমি আমার একটি নাম্বার দিয়ে ভেরিফাই করে নিলাম। তবে সার্ভারের সমস্যা থাকলে মেসেজ আসতে কিছুক্ষণ সময় নিতে পারে তিন থেকে চার মিনিট। ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হলে আপনাকে নিচের মত একটি ইন্টারফেস দেখাবে।

অর্থাৎ এখানে আপনাকে বলা হচ্ছে আপনি এনআইডি ওয়ালেট নামের একটি অ্যাপস ডাউনলোড করুন এবং সেটি দিয়ে আপনার ফেস স্ক্যান করুন। প্রয়োজন অনুসারে আমরা এনআইডি ওয়ালেট এপপ্স গুগল প্লে স্টোর থেকে ডাউনলোড করলাম।আপনাদেরকেও ডাউনলোড করে নিতে হবে।

এখানে এপ্সে গিয়ে ফেস স্কান করতে হয়।  যার এনআইডি কার্ড তুলছি তারপর ফেস স্কান করব।  স্ক্যান করার সময় একটা বিষয় খেয়াল রাখবেন প্রথমে আপনার মুখ মণ্ডলের সামনের অংশ অংশ, তারপর ডান অংশ এবং বাম অংশ ।

স্ক্যান সম্পূর্ণ হলে আপনাকে জানিয়ে দেওয়া হবে এরপর এনআইডিবিডি অ্যাপস থেকে বের হয়ে এসে আপনি ব্রাউজারের সেই ওয়েবসাইট আবার ঢুকবেন। অর্থাৎ সেই পেজে যেখান থেকে আপনি এনআইডিবিডি অ্যাপ্স এ ঢুকে ছিলেন। সেখানে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন কিংবা রিফ্রেস দিন। দেখবেন আপনার ইনফরমেশন সামনে চলে এসেছে।

Step-3:

এরপর আপনাকে নিচের মত একটি ইন্টারফেস দেখাবে।

আপনি যেহেতু ডাউনলোড করবেন তাই এখানে কোন কিছু করার দরকার নেই। শুধুমাত্র এড়িয়ে যান বাটনে ক্লিক করেই আপনি আসল স্থানে পৌঁছাতে পারবেন। এরপর আপনাকে নিচের মত একটি ইন্টারফেস দেখাবে।

এখানে আপনার সমস্যা ইনফর্মেশন শো করছে আপনার প্রোফাইল ইত্যাদি ইত্যাদি। এখান থেকে সবচেয়ে নিচের অপশন ডাউনলোড এ ক্লিক করুন এখান থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র ডাউনলোড করতে পারবেন ডাউনলোড বাটনে ক্লিক দিলে আপনার এনআইডি কার্ডের একটি পিডিএফ ডাউনলোড হতে শুরু করবে। মাত্র কয়েক সেকেন্ড পরেই ডাউনলোড সম্পন্ন হবে। তারপর আপনি মেমোরিতে গিয়ে কিংবা ক্রোম থেকে ওপেন বাটনে ক্লিক করে আপনার এনআইডি কার্ড দেখতে পাবেন। ব্যাস হয়ে গেল আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র ডাউনলোড করা।

আমন সব দারুণ টিপস পেতে নিয়মিত ভিজিট করুন আমাদের  ShopTips24.CoM ওয়েবসাইটে। ধন্যবাদ সবাইকে।

The post আইডি কার্ড ডাউনলোড করুন ফর্ম বা এনআইডি নাম্বার দিয়ে। appeared first on Trickbd.com.

Source: