আপওয়ার্ক মার্কেটপ্লেস সম্পর্কে বিস্তারিত সবকিছু এবং আপওয়ার্কে কাজ করার কিছু টিপস।

Posted on

আসসালামু আলাইকুম।
বেশি কথা না বলে মূল পোস্টে যায়।
source: drupal.org

আপওয়ার্ক একটি বিশ্বব্যাপী চাকরির বাজারভিত্তিক কোম্পানি, যার লক্ষ্য হলো বিভিন্ন শ্রেণির কাজে দূরবর্তী কর্মীদের ভাড়া করে সেই কাজগুলো করিয়ে নেয়া। ২০০৩ সালে ওডেস্ক (রেড উড সিটি, সি এ) প্রতিষ্ঠা করেছিলেন গ্রিসের ব্যবসায়িক ঠিকাদার অডিসিয়াস সাতালস এবং স্রাতিস কারামানলাকিস। আপওয়ার্ক হচ্ছে একটি ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস, যেখানে সারা পৃথিবী থেকে প্রায় ১ কোটি ফ্রিল্যান্সার কাজ করছে। এ মুহূর্তে আপওয়ার্কে ৪ লক্ষের উপর কাজ রয়েছে। সাইটটিতে প্রতিটি প্রজেক্টের জন্য “একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ মূল্য” হিসেবে অথবা ‘প্রতি ঘণ্টা কাজের জন্য অর্থ’ উভয় প্রকারের কাজ পাওয়া যায়। আপওয়ার্ক মূলত আউটসোর্সিং- এর একটি প্রাযুক্তিক ধারণা, যা স্বাধীনভাবে চুক্তিবদ্ধ কাজ অফার করে। আপওয়ার্ক হচ্ছে ইল্যান্স, ফ্রিল্যান্সার, গুরু এবং ভিওয়ারকার (প্রাক্তন ‘রেন্ট আ কোডার) এর মতো একটি কোম্পানি, যেখানে একজন চাকরিদাতা এবং একজন ফ্রিল্যান্সার একে অপরের সাথে চুক্তি করে থাকেন। আপওয়ার্কে ফ্রিল্যান্সিং করার কয়েকটি নিয়ম রয়েছে, যেমন—
নিয়মকানুনঃ-

  1. কোনো একটি কাজে দক্ষ হওয়া।
  2. আপওয়ার্কে অ্যাকাউন্ট/প্রোফাইল তৈরি করা।
  3. ন্যাশনাল আইডি এবং প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে প্রোফাইল ১০০% কমপ্লিট করা।
  4. আপনার স্কিলসেট/দক্ষতার কিছু পরীক্ষা দেয়া এবং কয়েকটি পোর্টফোলিও রাখা।
  5. জব ভালোভাবে বুঝে বিড/অ্যাপ্লিকেশন করা।
  6. প্রজেক্ট পাওয়ার পর ভালোভাবে সম্পন্ন করা এবং সঠিক সময়ে প্রজেক্ট ক্লায়েন্ট-এর কাছে সাবমিট করা।
  7. প্রজেক্ট সাবমিটের পর রেটিং/ফিডব্যাক নেয়া।
  8. পেমেন্ট উত্তোলন।

আপওয়ার্কে কাজ করার কিছু টিপসঃ
একটি নতুন প্রজেক্ট গ্রহণ আগেঃ

কাজ সম্পর্কে আশা এবং উদ্দীপনা থাকা অত্যন্ত মহৎ একটি ব্যাপার। তবে তার মানে এই নয় যে, আপনার বিড ক প্রত্যেকটি প্রজেক্ট-এর জন্যই আপনাকে হায়ার করা হবে। সেই প্রজেক্টগুলোই শুধুমাত্র নির্বাচন করুন, যেগুলো খুব ভালোভাবে এবং সময়মতো সম্পন্ন করতে আপনি সক্ষম। এখানে আরো পাঁচটি টিপস সংযোজন করা হলো কীভাবে নতুন কোনো প্রে সফলতার সাথে সম্পন্ন করবেন।

  1. কাজ ভালোভাবে বুঝাঃ
  2. নিশ্চিত করুন প্রজেক্ট সম্পন্ন করতে যে-সকল যোগ্যতা/দক্ষতা প্রয়োজন তা আপনার আছে। ক্লায়েন্ট যে রকম দক্ষতা চাচ্ছেন, তা পাচ্ছে তো? নিশ্চিত করুন।

  3. নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করতে পারাঃ
  4. ডেডলাইন বুঝুন এবং নিশ্চিত হোন যে, প্রজেক্ট সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য আপনার সময় আছে। আপনার অন্যান্য অঙ্গীকার এবং সময়সীমা পরিকল্পনা অনুযায়ী বিবেচনা করুন।

  5. এটা নিশ্চিত করুন যে, কাজটির জন্য আপনি যথাযথ উপযুক্তঃ
  6. এটা জানা যথেষ্ট নয় যে, আপনি কাজ করতে পারেন। আপনাকে অবশ্যই এটা প্রমাণ করতে হবে যে, আপনি কাজের জন্য যথাযথ উপযুক্ত। আপনার অভিজ্ঞতা দেখাতে প্রোফাইল, কভার লেটার এবং দক্ষতা ব্যবহার করুন এবং ক্লায়েন্টকে যতটা সম্ভব সহযোগিতা করুন আপনাকে নির্বাচন করার জন্য।

  7. কথোপকথনে স্বচ্ছ হওয়াঃ
  8. ইন্টারভিউতে অংশগ্রহণ করুন, যখন ক্লায়েন্ট আপনাকে ইন্টারভিউর জন্য আমন্ত্রণ জানায়। নিশ্চিত করুন যে, আপনি বুঝতে পারছেন ক্লায়েন্ট যা খুঁজছেন। আপনি হয়ত বুঝতে পারলেন যে, কোনো একটি বিষয় আপনার ধারণার সাথে হুবহু মিলছে না। তাই প্রজেক্ট গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকুন।

  9. সময়ের যথাযথ পরিকল্পনা করাঃ
  10. একদিনে অনেক ঘণ্টা সময় পাবেন কাজ করার। এটা নিশ্চিত করুন যে, একটি কাজের জন্য কতক্ষণ সময় ব্যয় করতে আপনি সক্ষম, কারণ দিনের সবটুকু সময় একটি কাজের জন্য ব্যয় করা সম্ভব নাও হতে পারে। সেই প্রজেক্টগুলোই গ্রহণ করুন, যেগুলো অত্যন্ত সফলতার সাথে এবং সময়মতো সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

একটি নতুন প্রজেক্ট শুরু করার পূর্বেঃ
কাজ শুরু করার পূর্বে নিশ্চিত করা অত্যন্ত কঠিন যে, আপনার প্রজেক্টটি অত্যন্ত সফলতার সাথে সম্পন্ন হবে। এক্ষেত্রে যোগাযোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কয়েকটি ভালো পদ্ধতির একটি হচ্ছে যে, অন্য ফ্রিল্যান্সারদের জন্য কাজ করা।

  1. প্রজেক্টের বিস্তারিত বিষয় নিয়ে মিটিং করাঃ
  2. যখনি আপনি স্কাইপি, ফোন বা গুগল হ্যাঙ্গআউট এর মাধ্যমে ক্লায়েন্ট-এর সাথে আলোচনা করবেন তখন নিশ্চিত হোন। যে, ক্লায়েন্ট যে সময়ের মধ্যে কাজটি চাচ্ছেন তা আপনি দিতে পারবেন।

  3. একসাথে কাজ করার পদ্ধতি নির্ধারণঃ
  4. মিটিং চলাকালে, ক্লায়েন্টকে এ ব্যাপারে নিশ্চিত করুন, কাজের অগ্রগতির জন্য কীভাবে আপনি যোগাযোগ রক্ষা করবেন। এ ছাড়াও আপনি কখন যোগাযোগ করতে চান এবং কোন বিষয়ে আলোচনা করতে চান, ক্লায়েন্টকে প্রজেক্ট চলাকালীন এসব বিষয়ে আপডেট দিতে থাকুন।

  5. সময়সীমা নির্ধারণ করাঃ
  6. আপনার ক্লায়েন্টের সঙ্গে কথা বলার কিছু সময়ের মধ্যেই ডেডলাইন নিশ্চিত করুন। ডেডলাইন সম্পর্কিত কোনো কিছুই। যদি কনফার্ম হয়ে না থাকে, তাহলে আপওয়ার্ক মেসেজ অপশন ব্যবহার করে এ বিষয়ে ক্লায়েন্টকে অব্যহিত করতে পারেন। এক্ষেত্রে পরবর্তীতে কোনো সমস্যা হলে এই মেসেজ রেফারেন্স হিসেবে কাজ করবে।

  7. প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংগ্রহ করা
  8. আপনার সবগুলো প্রশ্ন একসঙ্গে একটি তালিকা করে রাখুন। আপনার প্রথম মিটিং-এ এই তালিকা নিয়ে প্রথমে আলোচনা করা যেতে পারে। প্রশ্ন ছাড়াও, সেখানে কোনো পাসওয়ার্ড, কন্টাক্ট ইনফর্মেশন আপনার প্রয়োজন কি না তাও জেনে নিন। শুরু করতে প্রয়োজনীয় সবকিছু একত্রিত করুন এবং এসব ব্যাপারে ক্লায়েন্টকে একবার জিজ্ঞাসা করে নিন।

  9. বাস্তবসম্মত হওয়াঃ
  10. আপনি যখনি উপলব্ধি করবেন যে, আপনি হয়ত প্রজেক্টটি সম্পন্ন করতে পারবেন না, তাহলে সরাসরি আপনার ক্লায়েন্টকে অবহিত করুন, যেন তিনি সে অনুযায়ী পরিকল্পনা করতে পারেন।

এজেক্ট চলাকালীন

যোগাযোগ, সম্মান এবং সংবেদনশীলতা একটি পেশাদার সম্পর্ক স্থাপনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

  1. সতর্ক হওয়াঃ
  2. আপনি আপনার ক্লায়েন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করুন এবং তাদের জানান যে, আপনি তাদের প্রজেক্ট সম্পন্ন করার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন, যদিও ক্লায়েন্ট এ ব্যাপারে আপনাকে কোনো প্রশ্ন না করে থাকেন।

  3. সময়সীমার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা
  4. নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রজেক্ট শেষ করার ব্যাপারে ক্লায়েন্টের সাথে আপনি একমত, তা নিশ্চিত করুন। কোনো কারণে যদি আপনি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে প্রজেক্ট সম্পন্ন করতে সক্ষম না হন তাহলে অবিলম্বে আপনার ক্লায়েন্টকে অবগত করুন, কখন আপনি কাজটি সম্পন্ন করতে সক্ষম হবেন।

  5. প্রশ্ন করাঃ
  6. কোনো বিষয়ে সন্দেহ থাকলে প্রশ্ন করুন। আপনার যদি কোনো প্রশ্ন থাকে, তাহলে ক্লায়েন্টকে তা জিজ্ঞাসা করতে ভয় পাবেন না। আপনি কাজ ঠিক ঠিক ভাবেই করছেন, এ বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী হওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

  7. রেসপনসিভ হওয়া :
  8. ক্লায়েন্ট যখন আপনাকে মেসেজ পাঠায়, একদিনের মধ্যে সাড়া দেয়ার চেষ্টা করুন। ক্লায়েন্ট এ ব্যাপারে খুব উদ্বিগ্ন থাকেন যদি ফ্রিল্যান্সার সময়মতো তার মেসেজের উত্তর না দেয়।

  9. ফিডব্যাক-এর জন্য অনুরোধ করা :
  10. কাজের ফিডব্যাক জানতে ক্লায়েন্টকে প্রশ্ন করুন। ফলে ক্লায়েন্ট বুঝতে পারবেন আপনি আরো ভালো করতে অত্যন্ত আগ্রহী। হয়ত এ আগ্রহ দেখে ক্লায়েন্ট আপনাকে পরবর্তী কাজের জন্য আবার হায়ার করতে পারেন।

screenshotmonitor.com

প্রজেক্ট-এর শেষ মুহূর্তেঃ

প্রথম ইমপ্রেশন আপনাকে একটি চুক্তিতে জয়ী হতে সাহায্য করতে পারে। চূড়ান্ত ইমপ্রেশন ভালো ফিডব্যাক এবং ভবিষ্যতে পুনরায় ক্লায়েন্ট আপনাকে কাজ দিবেন কি না তার উপর নির্ভর করে। নিশ্চিত করুন উভয় ইমপ্রেশন সমানভাবে ইতিবাচক দিকে যাচ্ছে।

  • ক্লায়েন্টের সন্তুষ্টি অর্জনঃ
  • যখন আপনি আপনার চূড়ান্ত কাজ জমা দিবেন, আপনি আপনার ক্লায়েন্টকে জিজ্ঞাসা করুন কাজ কেমন হয়েছে বলে তারা মনে করছে? আপনি তাদের প্রত্যাশা কতটুকু পূরণ করতে সক্ষম হয়েছেন। অত্যন্ত স্বচ্ছ হোন যদি কোনো পরিবর্তন প্রয়োজন হয়। আপনি যদি সবসময় ফাইভ স্টার পাওয়ার মতো কাজ করেন, তাহলে ক্লায়েন্ট আপনাকে হাই রেটেড হিসেবে সাব্যস্ত করবেন এবং সবসময় আপনার সাথেই কাজ করতে পছন্দ করবেন।

  • ক্লায়েন্ট-এর সাথে চুক্তি সম্পন্ন করাঃ
  • যখন আপনি আপনার চূড়ান্ত কাজ জমা দিবেন এবং ক্লায়েন্ট গ্রহণ করবেন, নিশ্চিত করুন তিনি চুক্তি শেষ করেছেন। চুক্তি শেষে ক্লায়েন্ট সচরাচর কাজের ফিডব্যাক দিয়ে থাকেন। ইতিবাচক ফিডব্যাক আপনার স্কোর বৃদ্ধি, আপওয়ার্ক-এ অন্যান্য সম্ভাব্য ক্লায়েন্ট তৈরি করার সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

তথ্য উৎসঃ মো: কামরুল হাসান
তো আজ এই পর্যন্তই সবাই ভালো থাকবেন।

The post আপওয়ার্ক মার্কেটপ্লেস সম্পর্কে বিস্তারিত সবকিছু এবং আপওয়ার্কে কাজ করার কিছু টিপস। appeared first on Trickbd.com.

Source:

Leave a Reply

Your email address will not be published.