এই ইসমে আজম পড়ে আল্লাহর কাছে কোন নেক ইচ্ছে পূরণের উদ্দেশ্যে দোয়া করলে আল্লাহ তা কবুল করেন।

Posted on

আসসালামু আলাইকুম সবাই কেমন আছেন…..? আশা করি সবাই ভালো আছেন । আমি আল্লাহর রহমতে ভালোই আছি ।আসলে কেউ ভালো না থাকলে TrickBD তে ভিজিট করেনা ।তাই আপনাকে TrickBD তে আসার জন্য ধন্যবাদ ।ভালো কিছু জানতে সবাই TrickBD এর সাথেই থাকুন ।

ইসমে আজম


আজকে আমি আপনাদেরকে এমন একটি জিকির সম্পর্কে বলব যেটি করে আল্লাহর কাছে যত কঠিন কিছুই ছাড় না কেন আল্লাহ আপনাকে তা দিয়ে দিবেন ইনশাআল্লাহ। এই জিকিরটি আমরা হয়তো অনেকেই জানি। কিন্তু এই জিকির দিয়ে আমল করার নিয়ম আমরা জানিনা। আজকের আর্টিকেল জোরে আমরা সেটাই আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ। আমাদের জীবনে আমরা এমন সব পরিস্থিতির সম্মুখীন হই, যখন আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে যায়।

এমন সব কাজ আমাদের সামনে চলে আসে যেগুলো সম্পাদন করার আর কোন উপায় আমরা খুঁজে পাই না। এ ধরনের কঠিন সময় গুলোতে নিজের কার্যসিদ্ধির উদ্দেশ্যে এবং মনের বাসনা পূরণের জন্য আল্লাহর শরণাপন্ন হওয়া ছাড়া আর কোন উপায় থাকে না। এমন সংকটময় সময়গুলোতে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রাপ্তির জন্য আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম আমাদের আমল শিখিয়ে গিয়েছেন। আর তা হলো ইসমে আজমের আমল।

কিন্তু কিসে ইসমে আজম সেটি সম্পর্কে আজকের আর্টিকেলে আমরা জেনে নেবো। প্রিয় পাঠক এ বিষয়ে আমাদের রাসূল সাল্লাহু সাল্লাম কি বলে গিয়েছেন চলুন জেনে নেওয়া যাক। ইসমে আজম হলো মহান আল্লাহ তায়ালা মহান নাম। ইসমে আজমের মাধ্যমে যদি আল্লাহর কাছে কিছু চাওয়া হয় তবে তিনি বান্দার সেই চাওয়া পূরণ করে দেন। এই মহান নামের মাধ্যমে আল্লাহকে ডাকলে আল্লাহ বান্দাকে অবশ্যই সাড়া দেন।

এই মর্মে মহানবীর সাল্লাহু সাল্লাম থেকে অনেক বর্ণনা পাওয়া যায় বহু ইসলামিক স্কলার এ সম্পর্কে বলেছেন। ইসমে আজম হলো আল্লাহ তায়ালার মূল নাম অর্থাৎ আল্লাহ। আমরা জানি আল্লাহ তায়ালার অনেকগুলো গুণবাচক নাম রয়েছে। সেই সকল নামের মাঝেই মূল যে নামটি হলো সেটি হচ্ছে আল্লাহ। এই নামটিকে বেশিরভাগই স্কলার ইসমে আজম হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

কোন বান্দা যখন অন্তরের অন্তস্থল থেকে ইসমে আজম অর্থাৎ আল্লাহর জিকির করে এবং আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে মনের একান্ত বাসনা পূরণের কিছু চায়, তখন আল্লাহ তায়ালা বান্দার সেই চাওয়া কবুল করে নেন। ইসমে আজম সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু সাল্লাম তাঁর জীবদ্দশায় আমাদের অনেক কিছু শিখিয়েছেন। হাদিসের বর্ণনা পাওয়া যায়, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে বূরাইদাহ (বাঃ) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল (সাঃ) এক ব্যক্তিকে এই দোয়াটি বলতে শুনেন।

অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করি এবং জানি যে তুমি আল্লাহ তুমি ব্যতীত কোন মাবুদ নেই, তুমি এক অনন্য, মুখাপেক্ষীহীন এবং তুমি অন্যদের নির্ভরস্থল ।যিনি জনকও নন, জাতও নন এবং যার কোন সমকক্ষ নেই। (তিরমিজি হাদিস নাম্বারঃ ৩৫৪৪, আবু দাউদ হাদিস নাম্বারঃ ১৪৯৩, নাসাঈ ১৩০০)

রাসূল (সাঃ) ঐ ব্যক্তির মুখে এই বাক্যগুলো শুনে বলেনঃ সেই মহান সত্তার শপথ! যার হাতে আমার জীবন নিঃসন্দেহে এই ব্যাক্তি আল্লাহ তায়ালা মহান নাম ইসমে আজমের উসিলায় তার কাছে প্রার্থনা করেছে এবং যে নামের উসিলায় দোয়া করা হলে তিনি তা কবুল করে নেন এবং যে নামের উচিলায় প্রার্থনা করা হলে আল্লাহ তা গ্রহণ করে নেন। (নাসাঈ হাদিস নাম্বার ১৩০০)

এই হাদিসের আলোকে বিশ্বখ্যাত সব হাদিস বিশারদগণ বলেছেন যে, এই হলো সেই দোয়া যাকে ইসমে আজম বলা হয়। হাদিসের বিখ্যাত ব্যাখ্যাগ্রন্থ ফাতহুল বারী কিতাবে আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী (রহঃ) এই হাদীসটিকে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও বিশুদ্ধ হাদীস হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।এই ইসমে আজম পড়ে আল্লাহ তায়ালা কাছে দোয়া করলে অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা বান্দার মনের সমস্ত ভালো কল্যাণকর আশাগুলো পূরণ করবেন।

আর তাই আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত নিজের একান্ত কল্যাণকর ইচ্ছেগুলো পূরণের দৃঢ় ইমানের সাথে ইসমে আজমের আমল করা। আল্লাহ তায়ালা সকল মুসলিম উম্মাহকে ইসমে আজমের আমল যথাযথ করার তৌফিক দান করুন আমীন।

আপনার ওয়েবসাইটের জন্য আর্টিকেল প্রয়োজন হলে আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন ফেসবুকে আমি


The post এই ইসমে আজম পড়ে আল্লাহর কাছে কোন নেক ইচ্ছে পূরণের উদ্দেশ্যে দোয়া করলে আল্লাহ তা কবুল করেন। appeared first on Trickbd.com.

Source:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *