কন্টেন্ট রাইটিং সম্পর্কে জেনে নিন বিস্তারিতভাবে

Posted on

আসসালামু আলাইকুম,বন্ধুরা সবাই কেমন আছেন?আশা করি সবাই ভালোই আছেন।আজকেও আমি আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি নতুন একটি ট্রিক নিয়ে।

তো বন্ধুরা আজকে আমি যে বিষয় নিয়ে আলোচনা করব তা হলো- কন্টেন্ট রাইটিং ।তো পোস্টটি শুরু করা যাক।

কন্টেন্ট কি?

Content writing কি, এই বিষয়ে ভালো করে জানার জন্যে সর্ব প্রথমে আপনাকে জানতে হবে ” কন্টেন্ট কি?” নিচে আমি আপনাদের কিছু কন্টেন্ট রাইটিং টিপস অবশই দিয়ে দিবো যেগুলো আপনাদের কাজে আসবে।বাংলাতে যদি কন্টেন্ট এর মানে বলা হয় তাহলে সেটা হলো “বিষয়বস্তু“।লেখনের উদ্দেশ্যে যদি কনটেন্ট এর কথা বলা হয় তাহলে কনটেন্ট বলতে, “আপনি যেটাই লিখছেন বা নিজের কৌশলের মাধ্যমে যেই বিষয়বস্তু তৈরি করছেন সেটাকেই একসাথে কনটেন্ট বলা যেতে পারে”।উদাহরণ স্বরূপে, যদি আপনি নিজের অভিজ্ঞতা এবং জ্ঞান এর ব্যবহার করে একটি আর্টিকেল লিখেছেন, তাহলে সেটাকে কনটেন্ট বলা যেতে পারে।বা, ধরুন আপনি নিজের ক্যামেরার মাধ্যমে একটি ভিডিও রেকর্ড করলেন এবং সেখানে কিছু তথ্য ইত্যাদি যোগ করে ভালো করে এডিট করলেন,তাহলে সম্পূর্ণ ভিডিওটিকে একটি ভিডিও কনটেন্ট বলা যেতে পারে।এমনিতে কনটেন্ট বলতে কেবল লেখন (writing) এর মাধ্যমে তৈরি করা বিষয়বস্তু কে বলা হয়না।কনটেন্ট বলতে আমরা ৪ রকমের বিষয় বুঝতে পারি,

1.Audio content:
ভয়েস বা শব্দের উচ্চারণ এর মাধ্যমে তৈরি বা রেকর্ড করা কনটেন্ট। যেমন,podcast, FM ইত্যাদি।

2.Video content: ভিডিওর মাধ্যমে তৈরি করা কনটেন্ট গুলোকে ভিডিও কন্টেন্ট বলা হয়। যেমন,YouTube video, web series,movies ইত্যাদি।

3.Text content:
যেই কনটেন্ট গুলোকে লেখনের মাধ্যমে তৈরি করা হয় সেগুলোকে টেক্সট কনটেন্ট বলে। যেমন,article, books ইত্যাদি।

4.Image content:
ছবি এডিটিং করে তৈরি করা বিষয়বস্তু গুলোকে ইমেজ কনটেন্ট বলে। যেমন, logo,templates, graphics ইত্যাদি।

5.Text Content:
কন্টেন্ট রাইটিং এর ক্ষেত্রে যেহেতু আমরা লেখনের ব্যবহার করে বিষয়বস্তু গুলোকে লিখে থাকি তাই এক্ষেত্রে আমাদের সরাসরি টেক্সট কনটেন্ট (text content) এর ব্যবহার করতে হয়।

কন্টেন্ট রাইটিং কি?

কন্টেন্ট রাইটিং মানে হলো,যেকোনো একটি বিষয়বস্তু যেটাকে লেখনের মাধ্যমে ব্যক্তিগত ভাবে তৈরি করা যেতে পারে।তাই সোজা ভাবে বললে,কন্টেন্ট রাইটিং মানে হলো এমন একটি লেখন যেখানে একটি বা একাধিক বিষয়ের ওপরে তথ্য প্রদান করা হয়েছে।এই লেখন বিভিন্ন বিষয়ের ওপরে হতে পারে।যেমন, stories, personal reviews, blog article,product,promotional review ইত্যাদি।Content writing এর ক্ষেত্রে মূলত একটি বিশেষ keyword এর ওপরে লক্ষ্য করে কনটেন্ট লেখা হয়।এবং সেই keyword এর মাধ্যমেই সেই কনটেন্ট
টিকে বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিন গুলোতে খুঁজে পাওয়া যেতে পারে।একজন সেরা কনটেন্ট রাইটার হতে পারলে আপনি একজন freelancer হিসেবে বিভিন্ন content writing jobs গুলো করতে পারবেন।এছাড়া, বর্তমান সময়ে এই কন্টেন্ট রাইটিং এর কাজ গুলো ঘরে বসেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে অনলাইনে করা হচ্ছে।আশা করছি, কন্টেন্ট রাইটিং বলতে কি বুঝায় বিষয়টা বুঝতেই পেরেছেন।

কন্টেন্ট রাইটার কে?

যেই ব্যক্তি (person)নিজের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান,কৌশল এবং দক্ষতার ব্যবহার করে নিজের একটি কনটেন্ট তৈরি করে বা লিখেন, সেই ব্যক্তিকেই বলা হয় কনটেন্ট রাইটার।উদাহরণ স্বরূপে, আমি “TrickBD.com”এর জন্যে বিভিন্ন বিষয়ে আর্টিকেল লিখে থাকি।যেহেতু, আমি আর্টিকেল লেখনের মাধ্যমে কনটেন্ট তৈরি করছি, তাই আমাকেও একজন কনটেন্ট রাইটার হিসেবে বলা যেতে পারে।

কন্টেন্ট রাইটিং এর প্রকার?

হ্যাঁ অবশ্যই, কন্টেন্ট রাইটিং এর কিছু আলাদা আলাদা প্রকার অবশ্যই রয়েছে।ইন্টারনেটের মধ্যে প্রচুর প্লাটফর্ম রয়েছে যেগুলোতে আলাদা আলাদা রকমের কনটেন্ট গুলোকে প্রচার করা হয়।আর ফলে বিভিন্ন প্লাটফর্ম এর চাহিদা অনুযায়ী তৈরি হয়ে থাকে আলাদা আলাদা রকমের কনটেন্ট গুলোর।একজন কনটেন্ট রাইটার হিসেবে আপনি নিজের রুচি, চাহিদা বা প্যাশন হিসেবে আলাদা আলাদা ধরণের কনটেন্ট তৈরি করতে পারবেন।যেমন,

1. Blogging:
এখানে সরাসরি কিছু বিশেষ বিষয় গুলোর ওপরে বিস্তারিত আর্টিকেল লেখা ও পাবলিশ করা হয়। মূলত তথ্যবহুল এবং লং (long) বা শর্ট (short) দুধরণের আর্টিকেল / কনটেন্ট লেখা হয় ব্লগিং এর ক্ষেত্রে।

2. Social media:
একটি কোম্পানি তাদের
content,product,services ইত্যাদির প্রচার করার
ক্ষেত্রে এবং অনেক ক্ষেত্রে নিজের অনলাইন ব্র্যান্ড
তৈরি করার উদ্দ্যেশ্যে তাদের সোশ্যাল মিডিয়া
পেজ গুলোতে ছোট-ছোট তবে মজার এবং আকর্ষক কনটেন্ট লিখেন এবং পাবলিশ করেন।

3. Copywriting:
মূলত একটি কোম্পানি বা
কোম্পানির প্রোডাক্ট গুলোর এডভার্টাইসিং বা
মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে এই ধরণের কনটেন্ট লিখা হয়।এখানে যেই product এর বিষয়ে লেখা হয় সেটাকে copy বা sales copy বলা হয়। এই আর্টিকেল লেখার উদ্দেশ্য হলো, ব্র্যান্ড এর গুণমান এর সচেতনতা বাড়ানো যাতে জনসাধারণেরা সেই প্রোডাক্ট কেনার ক্ষেত্রে
স্টেপ নিয়ে থাকেন।

4. Expert writing:
এক্ষেত্রে রাইটাররা কিছু বিশেষ বিষয়ে একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে সম্পূর্ণ রিসার্চ এবং ডিটেইলস সহ আর্টিকেল/কনটেন্ট লিখেন।

5. Journalistic/news writing:
এক্ষেত্রে নিউজ (news) এর সাথে জড়িত খবরাখবর গুলো লিখা হয়। এক্ষেত্রে মূলত ছোট ছোট শর্ট আর্টিকেল লিখা হয় যেগুলো বর্তমানের
দৈনন্দিন জীবনের ঘটনাবলীর সাথে জড়িত। বিভিন্ন অনলাইন নিউজ
পোর্টাল, সোশ্যাল মিডিয়া নিউজ পেজ, নিউজ ওয়েবসাইট ইত্যাদি গুলোতে নিউজ রাইটিং করা হয়।

6. Creative writing: যেগুলো লেখনে রাইটার
নিজের ক্রিয়েটিভিটির (creativity) প্রদর্শন করে থাকে সেই ধরণের রাইটিং কেই ক্রিয়েটিভ রাইটিং
বলা হয়। যেমন, poetry,fiction (novels, short stories), scripts,screenplays ইত্যাদির ক্ষেত্রে লেখা
কনটেন্ট।

বর্তমানের অনলাইন ব্যবসা গুলোর প্রচার, মার্কেটিং বা ব্র্যান্ডিং এর উদ্দেশ্যে এই প্রত্যেক কন্টেন্ট রাইটিং এর প্রকার গুলোকে প্রচুর পরিমানে ব্যবহার করা হচ্ছে।এছাড়াও নিজের ব্যক্তিগত রুচি এবং ইন্টারেস্ট এর ক্ষেত্রেও এগুলোর মধ্যে অনেক ধরণের কন্টেন্ট রাইটিং এর ব্যবহার হয়ে থাকে।

আশা করছি সবাই লেখাগুলো বুঝতে পেরেছেন।যদি আমার কোনো ভুল-ভ্রান্তি হয় তাহলে ক্ষমা করে দিবেন।আর যদি কোনো বিষয় বুঝতে না পারেন তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করবেন।আমি খুব শীঘ্রই উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো।

তো বন্ধুরা, আজকে এ পর্যন্তই,সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ্য থাকবেন।আবারও কোনো এক সময় হাজির হয়ে যাব আপনাদের কাছে অন্যকিছু ট্রিকস-টিপস নিয়ে।

প্রিয় বন্ধুরা,যদি একটু সময় পান তাহলে আমার সাইটটা ভিজিট করে আসবেন।সেখানেও আপনারা নিত্য-নতুন টিপস ও ট্রিকস পাবেন।

AllTrickBD.XyZ – Share And Upgrade Your Knowledge

Contact me on Facebook

The post কন্টেন্ট রাইটিং সম্পর্কে জেনে নিন বিস্তারিতভাবে appeared first on Trickbd.com.

Source:

Leave a Reply

Your email address will not be published.