প্রসঙ্গ যদি হয় বাজেটের মধ্যে ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন তাহলে- LG G6 ই সেরা | LG G6 Bangla Review

Posted on

আজ রিভিউ করতে যাচ্ছি এলজির ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন LG G6 এর। গাইজ আজকে রিভিউটি পুরোপুরি আমার ওপেনিয়ন এর ওপর বানানো।

এলজি তাদের গত পাঁচ বছর আগের ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইস LG G5 এর বেশ কিছু ঘাটতি রেখেছিল এবং এলজি তাদের মজার কনসেপ্টটি বাতিল করে দিয়েছে।
এবং চিন্তা করেছে একদম ভদ্রলোকি স্মার্টফোন তৈরি করা প্রয়োজন, তাই ফিউচারিস্টিক কিছু তৈরি না করে একদম বেসিক লেভেল এর একটি স্মার্টফোন তৈরি করেছে।

ঠিক যেমনটি আমরা কল অফ ডিউটি গেমটির মধ্যে দেখে এসেছি, টানা তিনটি ফিউচারিস্টিক গেম বানানোর পর এখন তারা ওয়াল্ড ২ তে চলে আসলো।


ডিভাইসটির বক্স থেকে হাবিজাবি জিনিসপত্র সাইডে রাখার পর কোনটি যখন হাতে নিলাম, ঠিক তখনই বুঝতে পারলাম প্রযুক্তি এখন অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে।
ফোনটা হাতে নিয়ে জাস্ট মনে হল আমি একটি ডিসপ্লে হাতে নিয়ে রয়েছি।

ফোনটির বেজেল এবং চীন এরিয়া গুলো এতটাই থিন যে ৫.৭ ইন্স ডিসেন্ট থাকা সত্ত্বেও ফোনটি এত ছোট মনে হয়েছিল। যা দেখার জন্য আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না।
তোর অভার অল এর ডিসপ্লে কোয়ালিটি ছিল ইম্প্রেসিভ।

ফোনটি মেটাল এবং গ্লাসের কম্বিনেশনে তৈরি কিন্তু ঘাপলা আছে, যেমন এর ফ্রন্ট প্যানেলে গরিল্লা গ্লাস ৩ ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু তারা ব্যাক প্যানেলে গরিলা গ্লাস ৫ ব্যবহার করেছে।

তো ফোনটা হাতে নিয়ে অনেকক্ষণ যাবৎ আমি ফোনটি পাওয়ার বাটন খোঁজাখুঁজির জন্য গবেষণা করতে লাগলাম, এন্ড দীর্ঘ ৩০ সেকেন্ড গবেষণা করার পর বুঝতে পারলাম এর পাওয়ার বাটন টি হচ্ছে। এর ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর এর সাথে এর পাওয়ার বাটন টি ইনক্লুড করা হয়েছে।

অ্যান্ড এই ফিঙ্গারপ্রিন্ট ইনক্লুড টু পাওয়ার বাটন আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে।

আর হ্যাঁ আইফোন ইউজারদের জন্য এক বালতি সমবেদনা দেয়া হলো কারণ এতে থাকছে একটি আকর্ষণীয় 3.5 এমএম হেডফোন জ্যাক।

ফোনটির লুক এন্ড ফিল এর ব্যাপারে বলতে গেলে নো ডাউট এটি দেখতে অনেক সুন্দর, এবং প্রিমিয়াম কোয়ালিটির।
যদিও ফোনটি তেমন একটা ভারী ছিল না মোটামুটি হালকা ছিল।
যার কারণে ফোনটি একহাতে ইউজ করতে খুব একটা প্রবলেম হয় না।


আর ফোনটি water-resistant যা দেড় মিটার পানিতে ৩০ মিনিট পর্যন্ত ওয়াটারপ্রুফ।

ফোনটি ডুয়েল সিম সাপোর্টেড এখানে হাইব্রিড স্লট ব্যবহার করা হয়েছে। তাই একসঙ্গে দুইটি সিম কার্ড এবং একটি মেমোরি কার্ড ব্যবহার করা যাবে না।
আপনাকে মেমোরি কার্ড ব্যবহার করতে হলে একটি সিম ইউজ করতে হবে।


G6 এ type-c ইউএসবি পোর্ট ব্যবহার করা হয়েছে এবং ফোনটি কুইক চার্জ ও সাপোর্টেড। অর্থাৎ আপনি যদি খুব দৌড়ের উপর থাকেন তাহলে ৩০ মিনিটে ফোনটি ৫০% চার্জ হয়ে যাবে।

আর গ্লাস ব্যাকপাট টি ফিঙ্গারপ্রিন্ট ম্যাগনেট এত বিরক্তিকরভাবে ফিঙ্গারপ্রিন্ট পড়ছিল যা একটু মানা যায় না এরকম একটা ব্যাপার।


ডিসপ্লে হিসাবে G6 এ আইপিএস এলসিডি প্যানেল ব্যবহার করা হয়েছে ডিসপ্লেটি ৫.৭ ইঞ্চি এর। স্ক্রিন টু বডি রেশিও সেভেন্টি 8.6 স্ক্রিন রেজুলেশন – 2880 × 1440 এবং ডিসপ্লেটি এইচডি আর ১০ সাপোর্ট করে।

এখন কথা হচ্ছে ডিসপ্লেটি কেমন?
এইচডিআর ১০ হচ্ছে একটি টেকনোলজি যা এলজি তাদের ওলেট টিভিতে ব্যবহার করে থাকে। এবং এটি ইনসিওর করে বেটার ভাইব্রেট কালার এবং অসাধারণ ভিউ এক্সপেরিয়েন্স।

এই ডিসপ্লেকে এমোলেড ডিসপ্লের সঙ্গে তুলনা করাটা একেবারেই বোকামি হবে, কারণ এমোলেড পুরাই ভিন্ন সাবজেক্ট এর ডিসপ্লে।
কিন্তু আইপিএস এলসিডি টাচ ডিসপ্লে হিসাবে এটি এখনো পর্যন্ত মার্কেটে বেস্ট ডিসপ্লে।

আর ডিসপ্লের ক্লিয়ারলি টি কালার টোন সাফনেস সব মিলিয়ে বলতে গেলে ডিসপ্লেটির এক্সপিরিয়েন্স ছিল অসাধারণ।

ডিসপ্লেটি দেখার পর আমার জাস্ট মনে হল এটি একটি জীবন্ত কাগজ।
আরো একটি প্রশংসা করার মত জিনিস হল ডিসপ্লেটির কর্নার গুলো। ডিসপ্লের কর্নার গুলোতে রাউন্ড শেপ দেয়া হয়েছে।
কিন্তু জুম করে ক্লিয়ারলি খেয়াল করলে দেখা যায় এটি আসলে পুরোপুরি রাউন্ড না। কিছুটা ঢিলেঢালা রয়ে গেছে।
কিন্তু নরমালি এটা সাধারন পাবলিক খেয়াল করতে পারবে না।

এবার ফোনটির স্পেসিফিকেশন নিয়ে কিছু কথা বলি।


ফোনটিতে প্রসেসর হিসেবে থাকছে Qualcomm Snapdragon 835 এবং জিপিইউ হিসেবে থাকছে অ্যাড্রিনো ৫৩০
৪ গিগাবাইট র্যাম এবং ৬৪ গিগাবাইট ইন্টারনাল স্টোরেজ।
তো এর চিপসেট টি অনেক পুরনো হলেও একটি কথা বলতে হয় Qualcomm Snapdragon 835 কোনভাবেই একটি খারাপ চিপসেট নয়।
এটি খুবই পাওয়ারফুল একটি প্রসেসর বললে চলে, তাই এই ডিভাইসটিতে চোখ বন্ধ করে হাই লেভেলের গেমিং করতে পারবেন।


জি সিক্স এর ক্যামেরা তে দুইটি সেন্সর ইউজ করা হয়েছে দুইটি সেন্সর ই ৩০ মেগা পিক্সেলের।
বাট একটি প্রাইমারি সেন্সর উইথ ওয়ান পয়েন্ট ৮ ফাস্ট অ্যাপাচার।
এবং আরেকটি ওয়াইড অ্যাঙ্গেল সেন্সর উইথ 2.4 সলাইটলি স্নও অ্যাপাচার।

জি সিক্স এর সবচাইতে ফেভারিট ফিচার হচ্ছে ওয়াইড অ্যাঙ্গেল সেন্সরটি, যদিও ওয়াইড অ্যাঙ্গেল সেন্সর টিতে ও এস এর অপূর্ণতা রয়েছে।

জি সিক্স ডিভাইসটিতে 4k ভিডিও রেকর্ডিং এনেবেল এবং ১২০ এফপিএস এ স্লোমো ভিডিও করতে পারে এটি।

ক্যামেরা ইউ আই তে এলজি এবার বেশ কিছু ফিচারঃ ইনক্লুড করে দিয়েছে, ক্যামেরাটিতে ম্যানুয়াল মুড আছে, আর ম্যানুয়াল মুড টি ভিডিও তেও কাজ করে।
আরো রয়েছে অটো এইচডি আর এর মত টুকটাক হাবিজাবি।
বাট সবচাইতে বেশি আনএক্সপেক্টেড ভাবে ডিসাইড পয়েন্ট হয়েছি আমি এর ফ্রন্ট ক্যামেরা টি দেখে।
ফ্রন্টে থাকছে ৫মেগাপিক্সেল এর টু পয়েন্ট ২ অ্যাপাসার যুক্ত ক্যামেরা।
ক্যামেরা তে একটি ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইস হিসেবে সেলফি ভালো আসছিল না তবে এর এখনকার দাম অনুযায়ী এর উপরে আর কোন ডিভাইস নাই।


আর রিয়ার ক্যামেরার কথা বলতে গেলে ডেলাইট আর নাইটে দুইটাতেই ফ্লাগশিপ লেভেলের ছিল। তাই রিয়ার ক্যামেরা নিয়ে কোনো কমপ্লেন নাই। জি সিক্স এর ওয়াইড অ্যাঙ্গেল পিকচার গুলো ছিল জাস্ট অস্থির।
তো ওভারঅল এই ক্যামেরাটি নিয়ে কোন অবজেকশন নেই।

এবার আসি সফট্ওয়ারে।
এলজির ইউ আই আমার কখনোই ভালো লাগেনা, আমি যখন এলজি জিটু ব্যবহার করেছিলাম এর পরের দিনই কাস্টম রম ইন্সটল করেছিলাম।
এখন কথা হচ্ছে এলজি ইউ আই কি আগের মতই আছে?
এর উত্তর হচ্ছে না কারণ এবারের ইউআইটি অনেক ফাস্ট এন্ড রেস্পন্সিভ ছিল।
তবে একটি জিনিস খুব মজার ছিল ফোনটির এইটিন পয়েন্ট৯ এক্সপেক্ট রেসিওর খুব রিজেনেবল ফ্যাসিলিটি রয়েছে।
যেমন মাল্টি উইন্ডো টাচ এ এক্সট্রা স্পেস পাওয়া যাবে। আর ইউ আই তে কিছু কাস্টমাইজেশন রয়েছে।


ইউ আই টি ৯.০ পাই তে রান করছে। আর লক স্ক্রিন থেকে শুরু করে ওয়ালপেপার গুলোতেও দুইটি ইনডিভিজুয়াল স্কোয়ারট টাইপের ডিজাইন করা হয়েছে।
এবং পাশাপাশি ক্যামেরা ইউ আই তে ভি ফাইনট এর পাশে একটি ছোট গ্যালারি উইন্ডো অ্যাড করেছে এলজি।

এলজি জি সিক্স এর ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর খুবই একুরেট এবং ফাস্ট ছিল কমপ্লেন দেওয়ার মতো কিছুই নেই।
আর ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্লেসমেন্ট খুব ভালো একটি জায়গায়। তাই আপনার হাতের আঙুল খুব ইজিলি এটিতে অ্যাক্সেস করতে পারবে।


সবশেষে থাকছে ব্যাটারি, একচুয়ালি ব্যাটারি ব্যাকআপ পুরোপুরি ইউজারের ব্যবহারের পরে ডিপেন্ড করে।
আমি নরমাল ইউজ করে ফুল একদিন ব্যাটারি ব্যাকআপ পেয়েছি।
৬ ঘন্টায় স্ক্রিন টাইম পেয়েছি হার্ডকোর ব্যবহারে। তো এটা টোটালি আপনার উপর ডিপেন্ড করবে মানে যেমন ব্যবহার করবেন তেমন ব্যাকআপ পাবেন।
সো গাইজ এই ছিল LG G6 এর ফুল রিভিউ। তো এত পুরনো ফোন রিভিউ করার একমাত্র কারণ হচ্ছে এটি বাংলাদেশের মার্কেটে এখন পাওয়া যাচ্ছে মাত্র – ৫,৯৯০ টাকায়। যেটা একেবারে অবিশ্বাস একটা ব্যাপার।
কারণ এই প্রাইসে এর চাইতে ভাল স্মার্টফোন আশা করাটাও পাগলামি ছাড়া আর কিছু না।


তো ফোন টি পার্সেস করতে পারবেন ঢাকায় হলে বসুন্ধরা সিটি মল থেকে অথবা যমুনা ফিউচার পার্ক থেকে।
আমি ফোনটি পার্সেস করেছিলাম যমুনা ফিউচার পার্ক থেকে আমি ওই সেলার এর নাম্বার দিয়ে দিলাম আপনারা চাইলে অর্ডার অথবা ওনার শপে গিয়ে পার্সেস করতে পারেন।
কন্টাক্ট নাম্বার- 01746742991

তো আজকের মত এ পর্যন্তই ছিল পোস্টটি কেমন লাগলো সেটি কমেন্ট সেকশনে ও জানাতে ভুলবেন না। আর এই বাজেটে এর চাইতে আরো ভালো ফোন যদি থেকে থাকে সেটি জানাতে পারেন।
তাহলে খুব শিগ্রই সেটির রিভিউ দিয়ে দেয়া হবে ট্রিকবিডিতে ধন্যবাদ ভাল থাকুন আল্লাহ হাফেজ ❤

The post প্রসঙ্গ যদি হয় বাজেটের মধ্যে ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন তাহলে- LG G6 ই সেরা | LG G6 Bangla Review appeared first on Trickbd.com.

Source:

Leave a Reply

Your email address will not be published.