ফজরের নামাজ সাতটি উপকারীতার কথা জানলে আপনি কখনোই ফজরের নামাজ ত্যাগ করবেন না

Posted on

আসসালামু আলাইকুম সবাই কেমন আছেন…..? আশা করি সবাই ভালো আছেন । আমি আল্লাহর রহমতে ভালোই আছি ।আসলে কেউ ভালো না থাকলে TrickBD তে ভিজিট করেনা ।তাই আপনাকে TrickBD তে আসার জন্য ধন্যবাদ ।ভালো কিছু জানতে সবাই TrickBD এর সাথেই থাকুন ।

ফজরের নামাজ সাতটি উপকারীতা

প্রিয় পাঠক আমরা সবাই জানি ফজরের নামাজ মূলত চার রাকাত। এর মধ্যে দুই রাকাত সুন্নত দুই রাকাত ফরজ নামাজ নিয়ে ফজরের নামাজ গঠিত। ফরজ অংশটি ইমামের নেতৃত্বে জামাতের সাথে আদায় করা হয়। সুবহে সাদিক থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত ফজরের নামাজের নির্দিষ্ট সময়। ফজরের দুই রাকাত সুন্নত নামাজের পর ফরজ নামাজ পড়তে হয়। উল্লেখ্য, ফজরের সময় শুরু হওয়া থেকে ইসলামের অন্যতম একটি স্তম্ভ রোজার সময় শুরু হয়। ফজরের নামাজ আদায়ে বিশেষ ৭টি উপকারী দিক নিয়ে আজকের আর্টিকেল আমরা আলোচনা করব। ইনশাআল্লাহ।

এক নাম্বারঃ ফজরের নামাজে দাঁড়ানো সারা রাত দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ার সমান। সুবাহানাল্লাহ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জামায়াতের সঙ্গে এশার নামাজ আদায় করল সে যেন অর্ধরাত্রি পর্যন্ত নফল নামাজ আদায় করল। আর যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করল সে যেন সারারাত জেগে নামাজ আদায় করলো।( মুসলিম হাদিস নাম্বার ১৩৭৭)

দুই নাম্বারঃ যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ পড়বে সেদিনের পুরোটা সময় আল্লাহর জিম্মায় থাকার দুর্লভ সৌভাগ্য লাভ করবে। ফজরের নামাজ পড়লেই শুধু এই ঈর্ষণীয় সৌভাগ্য লাভ করা যাবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ পড়বে সে ব্যক্তি সারাদিন আল্লাহর জিম্মায় থাকবে।( মুসলিম হাদিস নাম্বারঃ ৬৫৭)

তিন নাম্বারঃ ফজরের নামাজ কেয়ামতের দিন নূর হয়ে দেখা দেবে। বিখ্যাত সাহাবী হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু ওয়া সালাম বলেছেন →যারা রাতের আঁধারে মসজিদের দিকে হেটে যায়, তাদের কেয়ামতে দিন পরিপূর্ণ নূর প্রাপ্তির সুসংবাদ দাও। (আবু দাউা, ইবনে মাজাহ হাদিস নাম্বারঃ ৭৮১)

চতুর্থ নাম্বারঃ সরাসরি জান্নাত প্রাপ্তি। রাসূল সাল্লাহু সাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি দুই শীতল (নামাজ) পড়বে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর দুই শীতল (নামাজ) হলো ফজর ও আসর। (বুখারী) অপর বর্ণনায় এসেছেঃ এমন কোন ব্যক্তি জাহান্নামে যাবে না, যে ব্যক্তি( সূযোদয়ের আগের এবং সূর্যোস্তের আগের) ফজর ও আসরের নামাজ আদায় করে।( মুসলিম হাদিস নাম্বারঃ ১৩২২)

পঞ্চম নাম্বারঃ রিজিকে বরকত আসবে। ফজরের নামাজ পড়লেই রিজিকে অকল্পনীয়ভাবে বড় হতে থাকে। আল্লামা ইবনুল কাইয়ুম রাহমাতুল্লাহ আলাইহি তিনি বলেছেন সকালবেলার ঘরের রিজিক আসতে বাধা দিয়ে থাকে। কেননা তখন রিজিক বন্টন করা হয়। রাসূল সাল্লাহু সাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ পড়লে দুনিয়া ও আখেরাতের সেরা বস্তু অর্জিত হয়ে যাবে। ফজরের দুই রাকাত নামাজ, দুনিয়া ও তার মধ্যে যা কিছু আছে, সবার চেয়ে শ্রেষ্ঠ। (মুসলিম হাদিস নাম্বারঃ ১৫৮৩)

ষষ্ঠ নাম্বারঃ সরাসরি আল্লাহর দরবারে নিজের নাম আলোচিত হবে।ফজরের সময় ফেরেশতাদের পালাবদল হয়। আর এই সময়ে বান্দা যা কিছু করে ফেরেশতারা আল্লাহর কাছে তা পেশ করে । একটি হাদীসে আল্লাহর রাসূল সাল্লাহু সাল্লাম বিষয়টি চমৎকারভাবে তুলে ধরেছেন, তিনি বলেন →ফেরেশতারা পালাবদল করে তোমাদের মাঝে আগমন করেন একদল দিনে, একদল রাতে। আসর ও ফজরের সালাত এই উভয় দল একত্রিত হন। অতঃপর তোমাদের মাঝে রাত যাপনকরী দলটি উঠে যান।

আল্লাহ সবকিছু জানেন তবুও ফেরেশতাদেরকে প্রশ্ন করেন, তোমরা আমার বান্দাদেরকে কেমন দেখে এলে…? জবাবে ফেরেশতারা বলেন, আমরা তাদেরকে নামাজ রত রেখে এসেছি। যখন গিয়েছিলাম তখন তারা নামাজ রত হয়েছিল। (সহিহ বুখারি হাদিস নাম্বারঃ ৫৫৫)

সপ্তম নাম্বারঃ ফজরের নামাজ দিয়ে দিনটা শুরু করলে পুরো দিনের কার্যক্রমে একটা বরকতময় সূচনা হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু সাল্লাম উম্মতের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন এভাবেইঃ হে আল্লাহ আমার উম্মতের জন্য তার সকাল বেলায় বরকত দান করুন। ( তিরমিজি)

আমরা যদি দিনের শুরুটা ভালো কিছু দিয়ে শুরু করতে চাই তবে অবশ্যই ফজরের নামাজটা নিয়ম মেনে আদায় করতে হবে। আরো ভালো হয় যদি তাহাজ্জুদ দিয়ে শুরু করা যায়। তাহলে আমাদের কাজ ও নিয়তে বরকত পাওয়া যাবে। ফজরের নামাজ আদায়ের জাগতিক উপকারের কথা আল্লাহর রাসূল সাল্লাহু সাল্লাম এভাবে বলেছেন→ তোমাদের কেউ যখন ঘুমিয়ে পড়ে তখন শয়তান তার ঘাড়ের পশ্চাদংশে তিনটির গিঁট দিয়ে দেয়।

প্রতি গিঁটে সে এ বলে চাপড়ায় যে তোমার সামনে রয়েছে দীর্ঘ রাত, অতএব তুমি শুয়ে থাকো। অতঃপর সে ব্যক্তি যদি জাগ্রত হয়ে আল্লাহকে স্মরণ করে, তখন একটি গিঁট খুলে যায়, অতঃপর যখন সে উঠে অজু করে তখন আরেকটি গিট খুলে যায়। অতঃপর সালাত আদায় করলে তার আয়েকটি গিঁট খুলে যায়। অর্থাৎ তাঁর শেষ গিঁটটি খুলে যায়। তখন তার প্রভাত হয় উৎফুল্ল ও অনাবিল চিত্তে। অন্যথায় সে সকালে উঠে কলুষ কালিমা ও আলস্য নিয়ে।( বুখারী ১১৪২)

আপনার ওয়েবসাইটের জন্য আর্টিকেল প্রয়োজন হলে আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন ফেসবুকে আমি


The post ফজরের নামাজ সাতটি উপকারীতার কথা জানলে আপনি কখনোই ফজরের নামাজ ত্যাগ করবেন না appeared first on Trickbd.com.

Source:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *