ফরয গোসলের সঠিক নিয়ম জেনে নিন! লজ্জা নয় জানা ফরজ।

Posted on

আসসালামু আলাইকুম সবাই কেমন আছেন…..? আশা করি সবাই ভালো আছেন । আমি আল্লাহর রহমতে ভালোই আছি ।আসলে কেউ ভালো না থাকলে TrickBD তে ভিজিট করেনা ।তাই আপনাকে TrickBD তে আসার জন্য ধন্যবাদ ।ভালো কিছু জানতে সবাই TrickBD এর সাথেই থাকুন ।

ফরয গোসলের সঠিক নিয়ম জেনেনিন!

যেভাবে গোসল না করলে আমাদের পবিত্রতা অর্জন সঠিকভাবে আমরা করতে পারবো না ।এর জন্যই আজকে আমরা আপনাদের সামনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়টি নিয়ে আলোকপাত করব ইনশাআল্লাহ। লজ্জাবসত আমরা অনেকেই এই বিষয়টা জানতে চাইনা বা জানিনা। আমরা জানি পবিত্রতা ঈমানের অঙ্গ। আল্লাহ তায়ালা বলেন→ নিশ্চয় আল্লাহ তওবাকারী ও পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন।( সূরা আল বাকারা আয়াত ২২২)

রাসূলে কারীম সাল্লাহু সাল্লাম বলেছেন →যখন কোন মুমিন বান্দা অযুর জন্য পবিত্রতা অর্জনের জন্য মুখে পানি দেয় তখন মুখের সমস্ত গুনাহগুলো জোরে পড়ে যায়। যখন হাতে পানি দেয় তখন হাতের সমস্ত গুনাহগুলো জোরে পড়ে যায়। পায়ে পানি দিলে তখন পায়ের সমস্ত গুনাহগুলো জোরে পড়ে যায়। (সহিঃ মুসলিম হাদিস নাম্বারঃ ২৪৪)

আল্লাহ তায়ালা আরো বলেছেন→যদি তোমরা নাপাক হয়ে থাকো তবে তোমরা গোসল করো।( সূরা মায়েদা আয়াত ৬)

আল্লাহ তায়ালা বলেন →স্ত্রী সহবাসের পর নামাজের কাছেও যেয়ো না, যতক্ষণ না গোসল করে পবিত্র হও। ( সূরা নিসা আয়াত ৪৩)

হাদিসে আছে যে অপবিত্র শরীরে, অপবিত্র কাপড়ে ও বিছানাপত্রে নামাজ হয়না। (মিশকাত হাদিস নাম্বারঃ ২৬২) তাই নামাজ কবুলের জন্য পবিত্র তারও কোনো বিকল্প নেই।

যেসব কারণে গোসল ফরয হয়ঃ

১. স্বপ্নদোষের কারনে। জাগ্রত বা ঘুমন্ত অবস্থায় উত্তেজনার সঙ্গে বীর্যপাত হওয়া। ঘুমন্ত অবস্থায় উত্তেজনা অনুভব না করলেও বা না হলেও গোসল ফরজ হয়ে যায়। কেননা ঘুমন্ত অবস্থায় স্বপ্নদোষ হলে মানুষ অনেক সময় টের পায় না। তাই কোনো ব্যক্তি ঘুম থেকে উঠার পর যদি তার কাপড়ে নাপাকি চিহ্ন দেখে, তাহলে তার স্বপ্নদোষ বা বীর্যপাতের কথা স্মরণ থাকুক আর না থাকুক, সর্বাবস্থায় গোসল ফরজ হবে।( সূত্র হেদায়া ১/৪৫, আন নতাফ ফিল ফাতাওয়া পৃষ্ঠা ২৯)।

২. স্বামী-স্ত্রী সহবাসের কারণে।( মুসলিম হাদিস নাম্বারঃ ৩৪৩)

৩. উত্তেজনাবশত যদি বীর্য বের হয় তাহলেও গোসল ফরজ হয়ে যায়। পক্ষান্তরে মুযি ( লিঙ্গ থেকে তরল) বা কাম রস বের হলে গোসল ফরজ হয় না।

হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু বলেন→ আমার অধিক মুযি বের হত। নবী সাল্লাহু সালাম এর কন্যা আমার স্ত্রী হওয়ার লজ্জার কারণে আমি একজন সাহাবীকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করতে রাসূলের নিকট পাঠালাম। তখন তিনি প্রশ্ন করলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম তাকে বললেন→ যে তুমি ওযু করো ও লজ্জাস্থান ধুয়ে ফেল। ( বুখারি হাদিস নাম্বার ২৬৯) অর্থাৎ এক্ষেত্রে গোসল ফরজ হয় না। শুধু লজ্জাস্থান ধুয়ে অজু করে নিলেই হবে। এ প্রসঙ্গে আরেকটি হাদিসে, হযরত সাহল ইবনে হুসাইন রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন→ আমার অত্যধিক মযি নির্গত হতো তাই আমি অধিক গোসল করতাম। অতঃপর আমি এব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু সাল্লামকে জিজ্ঞেস করি। তখন তিনি বলেন মযি বের হওয়ার পর ওযু করাই যথেষ্ট

তখন আমি বলি ইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাপড় মযি লাগলে তখন কি করব। তখন তিনি বললেন কাপড়ের যে যে স্থানে মযি নিদর্শন দেখবে, এক আজলা পানি নিয়ে উক্ত স্থানে ধুয়ে নিবে, যাতে তা দূরীভূত হয়ে যায়। (সূত্র আবু দাউদ হাদিস নাম্বার ২১০)

তবে প্রিয় পাঠক মনে রাখতে হবে স্ত্রীর কাছে আমরা যদি লিঙ্গ প্রবেশ করায় এতে করে বীর্য বের হোক বা না হোক উভয় অবস্থাতেই গোসল ফরজ হয়ে যাবে। এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম বলেছেন →সহবাসের ক্ষেত্রে স্ত্রীর যৌনাঙ্গে পুরুষের সর্বনিম্ন পরিমাণ অংশে প্রবেশ করালেই উভয়ের উপর গোসল ফরয হয়ে যাবে। (সহি বুখারি হাদিস নাম্বারঃ ২৯১, মুসলিম ৩৪৩)

৪. নারীদের ঋতুস্রাব বা নেফাস( সন্তান প্রসবোত্তর স্রাব) বন্ধ হওয়ার পরে গোসল ফরজ হয়ে যায় এবং ফরজ গোসল করে তারপর পবিত্র হতে হয়। ( রদ্দুল মুহতার ১/১৬৫)

প্রিয় পাঠক আমরা জানি গোসলের ফরজ তিনটি

এক নাম্বারঃ উত্তমরূপে কুলি করা, রোজা অবস্থায় থাকলে গড়গড়া কুলি না করা আর অন্য সময় গড়গড়া কুলি করা। (বুখারি হাদিস নাম্বারঃ ২৫৭,২৬৫, ইবনে মাজাহ হাদিস নাম্বার ৫৫৬,৫৬৬)

দুইনাম্বারঃ পানি দ্বারা নাক পরিষ্কার করা। কমপক্ষে একবার বা ( এবং সর্তকতা স্বার্থেই ও রাসূলের সুন্নত হিসেবে) তিনবার নাকি নরম জায়গায় পানি পৌঁছে দিয়ে নাক পরিষ্কার করা। (সূত্র বুখারি হাদিস নাম্বারঃ ২৬৫, ইবনে মাজাহ হাদিস নাম্বার ৫৫৬,৫৬৬)

তিন নাম্বারঃ সমস্ত শরীরে পানি প্রবাহিত করা। এগুলো হচ্ছে গোসলের ফরজ। অর্থাৎ শরীরে কোন অংশ শুখনো রাখা যাবেনা।( তিরমিজি হাদিস নাম্বার ১০৫, আবু দাউদ হাদিস নাম্বার ২১৭)

এখন আমরা আসি মুল আলোচনায় ফরজ গোসল এবং গোসলের সুন্নতি নিয়ম বা তরিকা শুরু থেকে শেষ অবধি এক নজরে দেখে নেইঃ

এক নাম্বারঃ ফরজ গোসলের পূর্বে ইস্তিঞ্জা অর্থাৎ পেশাব করা। ( মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক হাদিস নাম্বার ১০২০)

দুই নাম্বারঃ শুরুতে “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম” এটি পড়া। (মুসনাদে আহমদ হাদিস নাম্বারঃ ১২৬৯৪)

তিন নাম্বারঃ পৃথকভাবে উভয় কব্জিসহ ধৌত করা। ( বুখারী শরীফ ২৪৮)

চতুর্থ নাম্বারঃ শরীর বা কাপড়ের কোন স্থানে নাপাক লেগে থাকলে প্রথমে তা তিনবার ধুয়ে পবিত্র করে নেওয়া। ( মুসলিম হাদিস নাম্বারঃ ৩২১)

পঞ্চম নাম্বারঃ নাপাকী না থাকলেও সর্বাবস্থায় গুপ্তাঙ্গ ধৌত করা। এরপর উভয় হাত ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া।( বুখারি হাদিস নাম্বারঃ ২৪৯)

ষষ্ঠ নাম্বারঃ সুন্নত তরিকায় পূর্ণ ওযু করা। তবে গোসল স্থানে পানি জমে থাকলে, গোসল শেষ করে পা ধৌত করবে। (বুখারি হাদিস নাম্বার ২৬০)

সপ্তম নাম্বারঃ প্রথমে মাথায় পানি ঢালা। ( বুখারি হাদিস নাম্বার ২৫৬)

অষ্টম নাম্বারঃ তারপর ডান কাঁধে পানি ঢালা। (বুখারি হাদিস নাম্বার ২৫৪)

নবম নাম্বারঃ এরপর বাম কাঁধে পানি দেওয়া। (বুখারি হাদিস নাম্বার ২৫৪)

দশ নাম্বারঃ অতঃপর অবশিষ্ট শরীর ভালভাবে ধৌত করে নেওয়া। (বুখারী শরীফ হাদিস নাম্বার ২৭৪)

এগারো নাম্বারঃ সমস্ত শরীরে এমন ভাবে তিনবার পানি পৌঁছানো যেন একটি পশমেট গোড়াও শুকনা না থাকে। (আবু দাউদ হাদিস নাম্বারঃ ৪৯/ মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা হাদিস নাম্বারঃ ৮১৩)

তবে নদী পুকুর বা সমুদ্রে গোসল করলে কিছুক্ষণ ডুব দিয়ে থাকলেই তিনবার পানি ঢালার সুন্নত আদায় হয়ে যাবে অথবা কয়েক সেকেন্ড করে তিনবার ডুব দিলেই হবে। (সূত্র আবু দাউদ হাদিস নাম্বারঃ ২৪৯/ মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা হাদিস নাম্বার ৮১৩)

বার নাম্বারঃ লজ্জাস্থান সহ সমস্ত শরীরে হাত দ্বারা ঘষে মেজে ধৌত করে নেওয়া।( তিরমিজি হাদিস নাম্বার ১০৬)

উল্লেখ মহিলা এবং পুরুষের গোসলের নিয়ম একই। প্রিয় পাঠক আর্টিকেলে অনিচ্ছাকৃতভাবে তথ্যগত বা কোন রেফারেন্সে ভুল থাকলে অনুগ্রহ করে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন এবং আপনার চোখে কোন ভুল ধরা পড়লেই কমেন্ট করে ভুলটি ধরিয়ে দিবেন।

আপনার ওয়েবসাইটের জন্য আর্টিকেল প্রয়োজন হলে আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন ফেসবুকে আমি


The post ফরয গোসলের সঠিক নিয়ম জেনে নিন! লজ্জা নয় জানা ফরজ। appeared first on Trickbd.com.

Source:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *