Kinemaster অ্যাপটি ব্যবহারের সকল সুবিধা এবং অসুবিধা

Posted on

আসসালামু আলাইকুম দর্শক। আপনারা সকলে কেমন আছেন? আশাকরি আল্লাহর রহমতে ভালই আছেন। আজকে চলে আসলাম আরেকটি নতুন পোস্ট নিয়ে। পোস্টের টাইটেল এবং থাম্বনেইল দেখে হয়তো আপনারা বুঝতে পেরেছেন আজকে আমি কি বিষয়ে আলোচনা করবো।

তো আজকে আমি আপনাদের কাইনমাস্টারে ভিডিও এডিটিং করা সম্পর্কে জানাবো। তাই আপনি যদি কাইনমাস্টারে ভালোভাবে ভিডিও এডিটিং করতে চান। তাহলে আজকের এই টিউনটি পড়ুন এবং পারলে আপনার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট গুলোতে শেয়ার করুন।

বর্তমানে একটি ভিডিও সুন্দর এবং আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য এডিটিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একটি ভিডিও এডিট করার মাধ্যমেই তার কোয়ালিটি এবং ভিডিওতে থাকা সবকিছু আরও স্পষ্ট ও সুন্দর করা যায়।

এছাড়া একটি ভিডিও এডিট করার মাধ্যমে ভিডিওতে বিভিন্ন ইফেক্ট এবং ইমেজ যুক্ত করা যায়। ভিডিওতে বিভিন্ন ধরনের টেক্সটও যুক্ত করা যায়। চাইলে একটি ভিডিওর মাঝে অন্য আরেকটি ভিডিও যুক্ত করা যায়।

তাই ভিডিও এডিটিং অ্যাপস এর চাহিদাও অনেক বেশি। বিশেষ করে যারা ইউটিউবিং করে। তাদের চ্যানেল এ ভিডিও আপলোড করার পূর্বে সেই ভিডিওটি ভালোভাবে এডিট করতে হয়।

কারণ একটি ভিডিও এডিট না করলে দর্শক সেই ভিডিওটি সম্পূর্ণ দেখতে চায় না। ফলে তারা সেই ভিডিওটি ছেড়ে অন্য ভিডিও দেখে। যে ভিডিও গুলো ভালোভাবে এডিট করা হয় এবং কোয়ালটিও ভালো সেই ভিডিওগুলো তারা দেখতে পছন্দ করে।

এজন্যই একটি ভালো ভিডিও এডিট করতে একটি ভালো মানের এডিটিং অ্যাপ প্রয়োজন হয়। বর্তমানে কাইনমাস্টার ভিডিও এডিটিং এর একটি সেরা অ্যাপ। এটি খুবই জনপ্রিয় ভিডিও এডিটিং অ্যাপ।

এই অ্যাপটি গুগল প্লে স্টোর থেকে ১০০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ ডাউনলোড করেছে। প্লে স্টোরে এর রেটিংও খুব ভালো। এছাড়া বেশিরভাগ ইউটিউবার তাদের ভিডিও এডিটিং এর জন্য এই কাইনমাস্টার অ্যাপটি ব্যবহার করে।

তাই আপনারা ভিডিও এডিটিং করতে চাইলে কাইনমাস্টার অ্যাপটি ব্যবহার করতে পারেন। এজন্য আপনাদের সর্বপ্রথম গুগল প্লে স্টোরে গিয়ে kinemaster লিখে সার্চ করতে হবে।

এরপর কাইনমাস্টার অ্যাপ টি ডাউনলোড করতে হবে। অ্যাপটি ডাউনলোড হয়ে গেলে ওপেন করতে হবে। অ্যাপটির দুটি ভার্সন রয়েছে। একটি হল ফ্রি ভার্সন এবং অন্যটি হলো প্রিমিয়াম ভার্সন। আপনি এখান থেকে যে কোনো একটি ভার্সন ব্যবহার করতে পারেন।

আপনি যদি প্রিমিয়াম ভার্সন ব্যবহার করতে চান। তাহলে টাকা দিয়ে অ্যাপটিতে সাবস্ক্রাইব করতে হবে। কিন্তু ফ্রি ভার্সন ব্যবহার করলে কোন টাকা লাগবে না। এক্ষেত্রে প্রিমিয়াম ভার্সন এর মত সুবিধা পাবেন না। তবু আমি বলবো আপনারা ফ্রি ভার্সনটিই ব্যবহার করুন।

এবার আপনি এখানে ভিডিও এডিটিং করতে পারবেন। ভিডিও এডিটিং এর সময় এখানে আপনি অনেকগুলো ফিচার পাবেন। আপনি যদি ভিডিওতে কোন প্রকার টেক্সট যুক্ত করতে চান। তাহলে এখানে আপনি বিভিন্ন ধরনের টেক্সটের ফোন পেয়ে যাবেন।

এখানে আপনি ক্রোমা কি পাবেন যা সাধারণত অন্য কোনো ভিডিও এডিটিং অ্যাপে পাওয়া যায় না। এছাড়া এখানে অনেক ধরনের ভিডিও টেমপ্লেট এবং অডিও সাউন্ড ইফেক্টও পাবেন। ভিডিওতে ব্যবহার করার জন্য অনেক ধরনের ভিজুয়াল ইফেক্ট এবং অনেক ইমেজ পেয়ে যাবেন।

এই সকল কিছু আপনারা আপনাদের ভিডিওতে সম্পূর্ণ ফ্রিতে ব্যবহার করতে পারবেন। তবে কিছু কিছু রয়েছে যেগুলো শুধু প্রিমিয়াম ভার্সনেই ব্যবহার করতে পারবেন। তবে এগুলোর মধ্যে বেশিরভাগই ফ্রি ভার্সন অর্থাৎ ফ্রিতে ব্যবহার করা যাবে।

কাইনমাস্টার অ্যাপ ব্যবহারের সকল সুবিধা এবং অসুবিধা:

সুবিধা:-

কাইনমাস্টার অ্যাপ টিতে কম্পিউটার কিংবা ল্যাপটপের মতোই ভিডিও এডিটিং করা যায়। এটি একটি প্রফেশনাল ভিডিও এডিটিং অ্যাপ এর মতই কাজ করে। এখানে যে সকল ফিচার রয়েছে সেগুলো ভিডিও এডিটিং এর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

তাই কাইনমাস্টার ভিডিও এডিটিং এ অনেক সুবিধা রয়েছে। এখানে ভিডিও cut করা যায়। ভিডিও এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সহজেই paste করা যায়। ভিডিওর শুরুতে, মাঝখানে কিংবা শেষে যেকোনো জায়গায় ইমেজ যুক্ত করা যায়।

আপনি যদি কোন প্রকার ভয়েস ওভার ভিডিও তৈরি করেন। তাহলে সে ক্ষেত্রে ভয়েস রেকর্ড করতে পারবেন। ভিডিও স্লো এবং ফাস্ট করতে পারবেন। ভিডিওতে যেকোনো ধরনের বা যেকোনো ফন্টের টেক্সট যুক্ত করতে পারবেন।

ভিডিওতে বিভিন্ন ধরনের সাউন্ড ইফেক্ট এবং ভিজুয়াল ইফেক্ট ব্যবহার করতে পারবেন। এছাড়া এখানে আপনি পেয়ে যাবেন ক্রোমা কি। যেটি অনেক সময় ভিডিও এডিটিং এর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায়। বিশেষ করে ইউটিউব এর ভিডিও এডিট করার সময়।

অসুবিধা:-

যেহেতু কাইনমাস্টার ভিডিও এডিটিং এর একটি অন্যতম সেরা অ্যাপ। তাই এখানে ভিডিও এডিটিং এর সময় অনেক সুবিধা পাওয়া যায়। কিন্তু এখানে ভিডিও এডিটিং এর জন্য যেমন সুবিধা রয়েছে তেমনি রয়েছে অনেক অসুবিধাও।

কাইনমাস্টার এর ফ্রি ভার্সন ব্যবহার করে ভিডিও এডিট করলে ভিডিওতে এর ওয়াটারমার্ক থেকে যায়। যেটি প্রিমিয়াম ভার্সন এ থাকেনা। ওয়াটারমার্ক এর ফলে বোঝা যায় যে ভিডিওটি কাইনমাস্টার অ্যাপ দিয়ে এডিট করা হয়েছে।

যে ফোনগুলোর র‌্যাম কম হয়। সেই ফোনগুলোতে এই অ্যাপটি সাধারণত সাপোর্ট করে না। যদিও সাপোর্ট করে কিন্তু সে ক্ষেত্রে ভিডিও এডিটিং এর সময় ফোন ল্যাক করে। আর ভিডিও এডিট করার পর সেভ করা যায় না।

এটি ব্যবহার করলে অনেক সময় ফোন হ্যাং করে এবং স্লো হয়ে যায়। যার ফলে আপনার ফোনের ব্যাটারির অনেক ক্ষতি হতে পারে। যেহেতু কাইনমাস্টার অনেক অ্যাডভান্স লেভেলের একটি ভিডিও এডিটিং অ্যাপ।

তাই নতুনদের জন্য এই অ্যাপটি ব্যবহার করা খুবই কঠিন হয়ে যায়। এই অ্যাপটিতে যে সকল ফিচার রয়েছে সেগুলো সব অ্যাডভান্স লেভেলের। তাই নতুনরা এই সকল ফিচার ব্যবহার করার সময় সমস্যার সম্মুখীন হয়। যা এই অ্যাপটি ব্যবহারের একটি বড় অসুবিধা।

শেষ কথা:-

আজকের এই পোস্টটি পড়ে হয়তো আপনারা কাইনমাস্টার এ ভিডিও এডিটিং করা সম্পর্কে অনেক কিছু বুঝতে পেরেছেন। এর সুবিধা এবং অসুবিধা সম্পর্কে জানতে পেরেছেন।
N.B:এই পোস্টটি Techtunes থেকে নেয়া হয়েছে । তাই সব Credit Techtunes এর ☺

My website 

The post Kinemaster অ্যাপটি ব্যবহারের সকল সুবিধা এবং অসুবিধা appeared first on Trickbd.com.

Source:

Leave a Reply

Your email address will not be published.